১৪৪৭ হিজরি ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখানে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সময় অনুযায়ী সামান্য পার্থক্য হতে পারে, তাই নিজের এলাকার স্থানীয় সময় মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। রোজা শুরু, শেষ সময় এবং প্রতিদিনের সেহরি-ইফতারের নির্ভুল তথ্য জানতে সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখুন।
পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে খতমে তারাবীহ নামায আদায় অর্থাৎ প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে ৯ পারা এবং পরবর্তী ২১ দিনে এক পারা করে তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতমে তারাবীহ আদায়ের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রায় সকল মসজিদে খতমে তারাবীহ নামাজে পবিত্র কুরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোন কোন মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী কর্মজীবী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে পবিত্র কুরআন খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে একটি অতৃপ্তি ও মানসিক চাপ অনুভূত হয়। পবিত্র কুরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি নিরসনকল্পে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে ১ পারা করে ২১ পারা তিলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র শবে কদরে পবিত্র কুরআন খতম করা সম্ভব হবে।
এমতাবস্থায় দেশের সকল মসজিদে খতমে তারাবীহ নামাজে প্রতিদিন পবিত্র কোরআনের নিম্নলিখিত সূরা ও আয়াত তিলাওয়াত করার জন্য মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, মুসল্লি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট অনুরোধ করা হলো।
১ম তারাবীহ সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার ১ আয়াত থেকে ২০৩ আয়াত পর্যন্ত,
২য় তারাবীহ সূরা বাকারার ২০৪ আয়াত থেকে সূরা আলে ইমরানের ৯১ আয়াত পর্যন্ত,
৩য় তারাবীহ সূরা আলে ইমরানের ৯২ আয়াত থেকে সুরা নিসার ৮৭আয়াত পর্যন্ত,
৪র্থ তারাবীহ সূরা নিসার ৮৮ আয়াত থেকে সূরা মায়িদার ৮২ আয়াত পর্যন্ত,
৫ম তারাবীহ সূরা মায়িদার ৮৩ আয়াত থেকে সূরা আ'রাফের ১১ আয়াত পর্যন্ত,
৬ষ্ঠ তারাবীহ সূরা আ'রাফের ১২ আয়াত থেকে সূরা আনফালের ৪০ আয়াত পর্যন্ত,
৭ম তারাবীহ সূরা আনফালের ৪১ আয়াত থেকে সূরা তাওবার ৯৩ আয়াত পর্যন্ত,
৮ম তারাবীহ সূরা তাওবার ৯৪ আয়াত থেকে সূরা হূদের ৫ আয়াত পর্যন্ত,
৯ম তারাবীহ সূরা হুদের ৬ আয়াত থেকে সূরা ইউসুফের ৫২ আয়াত পর্যন্ত,
১০ম তারাবীহ সূরা ইউসূফের ৫৩ আয়াত থেকে সূরা হিজরের ১ আয়াত পর্যন্ত,
১১তম তারাবীহ সূরা হিজরের ২ আয়াত থেকে সূরা নাহলের শেষ পর্যন্ত,
১২তম তারাবীহ সূরা বনি ইসরাঈলের ১ আয়াত থেকে সূরা কাহাফের ৭৪ আয়াত পর্যন্ত,
১৩তম তারাবীহ সূরা কাহাফের ৭৫ আয়াত থেকে সূরা ত্বহার শেষ পর্যন্ত,
১৪তম তারাবীহ সূরা আম্বিয়ার ১ আয়াত থেকে সূরা হজের শেষ পর্যন্ত,
১৫তম তারাবীহ সূরা মু'মিনুনের ১ আয়াত থেকে সূরা ফুরকানের ২০ আয়াত পর্যন্ত,
১৬তম তারাবীহ সূরা ফুরকানের ২১ আয়াত থেকে সূরা নামলের ৫৯ আয়াত পর্যন্ত,
১৭তম তারাবীহ সূরা নামলের ৬০ আয়াত থেকে সূরা আনকাবুতের ৪৪ আয়াত পর্যন্ত,
১৮তম তারাবীহ সূরা আনকাবুতের ৪৫ আয়াত থেকে সূরা আহযাবের ৩০ আয়াত পর্যন্ত,
১৯তম তারাবীহ সূরা আহযাবের ৩১ আয়াত থেকে সূরা ইয়াসিনের ২১ আয়াত পর্যন্ত,
২০তম তারাবীহ সূরা ইয়াসিনের ২২ আয়াত থেকে সূরা যুমারের ৩১ আয়াত পর্যন্ত,
২১তম তারাবীহ সূরা যুমারের ৩২ আয়াত থেকে সূরা হামীম সিজদাহের ৪৬ আয়াত পর্যন্ত,
২২তম তারাবীহ সূরা হামীম সিজদাহর ৪৭ আয়াত থেকে সূরা জাছিয়ার শেষ পর্যন্ত,
২৩তম তারাবীহ সূরা আহক্বাফের ১ আয়াত থেকে সূরা যারিয়াতের ৩০ আয়াত পর্যন্ত,
২৪তম তারাবীহ সূরা যারিয়াতের ৩১ আয়াত থেকে সূরা হাদীদের শেষ পর্যন্ত,
২৫তম তারাবীহ সূরা মুজাদালাহর ১ আয়াত থেকে সূরা তাহরীমের শেষ পর্যন্ত,
২৬তম তারাবীহ সূরা মুলকের ১ আয়াত থেকে সূরা মুরসালাতের শেষ পর্যন্ত এবং
২৭তম তারাবীহ সূরা নাবার ১ আয়াত থেকে সূরা নাস পর্যন্ত।
তারাবির নামাজের নিয়ত | তারাবির নামাজ শেষে দোয়া
রোজা রাখার নিয়ত
উচ্চারণ- নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি ফারদ্বল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম।
অর্থ- হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরজ করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে তা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
সেহরি-ইফতারের দোয়া
ইফতারের আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া সওয়াবের কাজ।
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْم – اَلَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ اَلْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْم
আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।
ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোয়া পড়ে ইফতার করা
اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِيْمِيْن
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি।
ইফতারের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়া
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-
ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ
উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’
অর্থ : ‘(ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)
আল্লাহ তা’আলা মুসলিম উম্মাহকে সেহরির পর নিয়ত করা, ইফতারের আগে তাওবা-ইসতেগফার করা, ইফতারের সময় দোয়া পড়া এবং ইফতারের পর শুকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
কোন মন্তব্য নেই