পৃথিবী সমতলে বিছানো ও বাসযোগ্য জায়গা। The Earth is a flat and habitable place.
পৃথিবী পুরোপুরি নিখুঁত বল নয়; একটু চাপা আকৃতির, যাকে বলে “oblate spheroid” — মানে, মেরু অংশগুলো (উত্তর ও দক্ষিণ) একটু চাপা, আর মাঝখানটা (equator) একটু ফুলে আছে।
পৃথিবী গোলাকার — এর অনেক প্রমাণ আছে।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পার্থক্য
পৃথিবীর এক জায়গায় সূর্য উঠলে অন্য জায়গায় তখন রাত — এটা শুধু সম্ভব গোলাকার পৃথিবীতে, কারণ সূর্যের আলো একসাথে পুরো পৃথিবীতে পড়ে না।
জাহাজ ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়
সমুদ্রের দিকে তাকালে জাহাজটা ধীরে ধীরে নিচের দিক থেকে অদৃশ্য হয়। যদি পৃথিবী সমতল হতো, তাহলে পুরো জাহাজটা একসাথে ছোট হতে দেখা যেত, অদৃশ্য হতো না।
চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া
চন্দ্রগ্রহণে চাঁদের ওপর যে ছায়া পড়ে তা সবসময় গোল হয় — এই ছায়া পৃথিবীর, তাই পৃথিবী গোল না হলে ছায়াটাও গোল হত না।
মহাকাশ থেকে তোলা ছবি
স্যাটেলাইট ও মহাকাশযান থেকে তোলা লাখ লাখ ছবিতে পৃথিবী স্পষ্টভাবে গোল দেখা যায়। NASA, SpaceX, ISS (International Space Station) সব জায়গা থেকেই একই প্রমাণ মেলে।
উড়োজাহাজের রুট
বিমান সরলভাবে না উড়ে curve (বাঁকা) রুটে উড়ে, কারণ পৃথিবী গোল। এই বাঁকা রুটটাই আসলে সবচেয়ে ছোট পথ।
কুরআনে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে বেশ কিছু আয়াত আছে, যেগুলো অনেক ইসলামি আলেম ব্যাখ্যা করেছেন যে পৃথিবী গোলাকার বা বৃত্তাকার প্রকৃতির।
সূরা আন-নাযিয়াত (৭৯:৩০)
وَالأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَاهَا
এবং এরপর তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত ও বিছিয়ে দিলেন।
আরবি শব্দ “دَحَاهَا (দাহাহা)” এসেছে “দাহ্ইয়াহ” থেকে, যার অর্থ “ডিমের মতো গোল বা চ্যাপ্টা গোল আকৃতি”।
অনেক ইসলামিক পণ্ডিত যেমন ইবনু আব্বাস (রা.) ও আধুনিক ব্যাখ্যাকাররা বলেন — এটি পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি নির্দেশ করে।
সূরা যুমার (৩৯:৫)
يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ
তিনি রাতকে দিনের ওপর পেঁচিয়ে দেন এবং দিনকে রাতের ওপর পেঁচিয়ে দেন।
এখানে “يُكَوِّرُ (ইউকাওয়িরু)” শব্দটির অর্থ “পেঁচিয়ে দেওয়া” — যেমন কাপড় পেঁচানো বা বলের চারপাশে কিছু ঘুরিয়ে দেওয়া।
এটি বোঝায় পৃথিবী এমন একটি গোল বস্তুর মতো যার চারপাশে দিন-রাত ঘুরে আসে।
সূরা আর-রহমান (৫৫:৩৩)
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا
এখানে “أَقْطَار (আকতার)” শব্দটি “বৃত্ত বা গোলাকার বস্তুর ব্যাস” বোঝায়।
এটিও ইঙ্গিত করে যে পৃথিবী একটি বৃত্তাকার বস্তু যার সীমা চারদিক ঘিরে আছে।
সূরা আল-বাকারা (২:২২)
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا
তিনিই তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা/শয্যা বানিয়েছেন…”
এখানে “ফিরাশা” (فِرَاشًا) শব্দের অর্থ — বিছানা, সমতল ও বাসযোগ্য জায়গা।
কোন মন্তব্য নেই